top of page

মহাকাশ যুগে বাংলাদেশ কক্ষপথে পৌঁছে সংকেত পাঠাচ্ছে বঙ্গবন্ধু-১

  • May 13, 2018
  • 3 min read

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের প্রায় ৩৩ মিনিট পর স্যাটেলাইটটি ফ্যালকন ৯ রকেটের দ্বিতীয় অংশ থেকে আলাদা হয়ে কক্ষপথ অভিমুখে যাত্রা শুরম্ন করেযাযাদি রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডের কেপ কেনেডি সেন্টারের লাঞ্চিং প্যাড থেকে শনিবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে মহাকাশে যাত্রা শুরম্ন করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -ফোকাস বাংলাসফলভাবে উৎক্ষেপণের পর কক্ষপথে পৌঁছে গাজীপুরে ও বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ গ্রাউন্ড স্টেশনে প্রাথমিক পরীক্ষামূলক সংকেত পাঠাতে শুরম্ন করেছে। শনিবার দুপুরে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে লাইভে এসে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকাল ৬টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ২৫ মিনিট) বঙ্গবন্ধু-১ গাজীপুরে ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড স্টেশনে সংকেত পাঠায়। কক্ষপথে এটি সুস্থির হতে আরও ১১ দিন সময় লাগবে। গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনও প্রাথমিক সংকেত গ্রহণ করেছে। এই স্টেশনে নিযুক্ত প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম জানান, উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টা ১০ মিনিট পর তারা গাজীপুর স্টেশনে প্রাথমিক সংকেত পান। তবে এই স্যাটেলাইটের পূর্ণাঙ্গ সেবা পেতে ২-৩ মাস লাগবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ মে) বিকালে পৃথিবীর কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা করে বঙ্গবন্ধু-১। উৎক্ষেপণের প্রায় ৩৩ মিনিট পর স্যাটেলাইটটি ফ্যালকন ৯ রকেটের দ্বিতীয় অংশ থেকে আলাদা হয়ে জিওস্টেশনারি অরবিটের (কক্ষপথ) অভিমুখে এগিয়ে চলে। আর উৎক্ষেপণের পর ৩৬ মিনিটের মধ্যেই স্যাটেলাইটটি সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে চলে যায়। বাংলাদেশের এই স্বপ্নযাত্রা শুরম্ন হল কেনেডি স্পেস সেন্টারের সেই '৩৯-এ' লঞ্চ কমপেস্নক্স থেকে, যেখান থেকে ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের 'অ্যাপোলো-১১' মহাকাশযানটি মানুষকে পৌঁছে দিয়েছিল চাঁদে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু-১। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে। বাংলাদেশ এতোদিন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল; বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুণতে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাই ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। নিজস্ব যোগাযোগ স্যাটেলাইট কাজ শুরম্ন করার পর বাংলাদেশ ভাড়া স্যাটেলাইটের নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকার আশা করছে। মানুষের মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এই উৎক্ষেপণ চিহ্নিত হয়ে থাকবে পুনঃব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণের প্রথম সফল উৎক্ষেপণ হিসেবেও। বস্নক ফাইভের এই সফল যাত্রার ওপর ভর করেই মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন দেখছে স্পেসএক্স। ভূমি থেকে কক্ষপথ উৎক্ষেপণের দেড় মিনিটের মাথায় ফ্যালকন-৯ ম্যাক্স কিউ অতিক্রম করে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যাওয়ার পর স্টেজ-২ কাজ শুরম্ন করে। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ এরপর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং অবতরণ করে আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে। উৎক্ষেপণের মোটামুটি সাড়ে ৩৩ মিনিটের মাথায় বঙ্গবন্ধু-১ পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে। রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাশূন্যে গা ভাসায় বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট। রকেট থেকে উন্মুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু-১ এর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা। সব মিলিয়ে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মহাকাশের ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নিজস্ব অরবিটাল স্স্নটে স্থাপিত হবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। তবে অরবিটাল স্স্নটে স্যাটেলাইটকে বসিয়ে কাজ শুরম্ন করতে সময় লাগবে প্রায় দুই মাস। তখন গাজীপুরের জয়দেবপুর আর রাঙামাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই এর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে কক্ষপথকে চিহ্নিত করা হয় তিনভাবে। এগুলো হলো লো আর্থ অরবিট (এলইও), জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিট (জিইও) এবং মিডিয়াম আর্থ অরবিট (এমইও)। সব কাজ শেষে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হবে 'জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিটের' একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট হল এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যেটি নিরক্ষ রেখা বরাবর ওই কক্ষপথে থেকে পৃথিবীকে ২৪ ঘণ্টায় একবার প্রদক্ষিণ করবে। এই প্রদক্ষিণ হবে পৃথিবীর আবর্তনের দিকে, অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্বে। ফলে গ্রাউন্ড স্টেশনের সাপেক্ষে উপগ্রহটি থাকবে প্রায় স্থির। এ কারণেই 'জিওস্টেশনারি' শব্দটি এসেছে। স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ অথবা মাইক্রোওয়েভ সংকেত আকারে গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পাঠানো তথ্য (আপ-লিংক) গ্রহণ করবে। ওই সংকেতকে কয়েকগুণ 'অ্যামপিস্নফাই' করে আবার তা ফেরত পাঠাবে (ডাউন-লিংক) পৃথিবীতে। মহাকাশে স্বপ্নযাত্রা বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম দফার উৎক্ষেপণ চেষ্টা কারিগরি কারণে শেষ মুহূর্তে আটকে যাওয়ায় যারা হতাশ হয়েছিলেন, শুক্রবারের সফল উৎক্ষেপণ তাদের আনন্দে ভাসিয়েছে। স্পেসএক্সের ইউটিউব চ্যানেলে এই উৎক্ষেপণের 'লাইভ স্ট্রিমিং' দেখানো হয়। আর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি ওই উৎক্ষেপণ সরাসরি সম্প্রচার করে। টেলিভিশন আর কম্পিউটারে চোখ রেখে ইতিহাসের সাক্ষী হয় রাত জাগা মানুষ। এই স্বপ্নযাত্রার প্রস্ত্মুতি শুরম্ন হয়েছিল এক দশক আগে। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ২০০৮ সালে এ বিষয়ে একটি কমিটি করে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০০৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। এরপর নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য আন্ত্মর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিটের (আইটিইউ) কাছে ইলেক্ট্রনিক আবেদন দাখিলসহ প্রাথমিক ধাপ শেষ করে বাংলাদেশ। দেশি-বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততায়, জনবল এবং বাজেট বরাদ্দে এগিয়ে চলে পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের বিভিন্ন ধাপ। উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ

Faruk Khan


 
 
 

Comments


Contact

+8801768040423

Follow

  • facebook
  • twitter
  • linkedin

©2018 BY NEWS BLOGGER WEBSITE. PROUDLY CREATED WITH WIX.COM

bottom of page